বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন, ২০১২

যুদ্ধকালীন বেতার
প্রফেসর আশরাফুল ইসলাম




খুব ছোট বেলা থেকেই রেডিও শোনার প্রতি আমার দূর্বলতা সৃষ্টি হয়। গ্রামে তখন খুব কম লোকেরই রেডিও ছিলো। এসময় বাবার একব্যান্ড রেডিওতে গান শুনতাম। তখন আমি পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের বাড়ীতে যুদ্ধের খবরা-খবর শোনার জন্য গ্রামের অসংখ্য মানুষ ভীড় জমাতেন। স্বভাবতই রেডিওর অপারেটর ছিলাম স্বয়ং আমি। বৈঠকখানায় চৌকির উপর বসে আমি ‘অল ইন্ডিয়া রেডিওর' সংবাদ ধরাতাম। আমার চারদিকে বসে গ্রামের শত-শত উৎসুক মানুষ অল ইন্ডিয়া রেডিওতে প্রচারিত যুদ্ধের সংবাদ শুনতেন। যেহেতু রেডিওটি ছিলো আমার এবং আমিই ছিলাম অপারেটর সেহেতু নিজেকে আমার তখন খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলেই মনে হতো। ঐ সময় অল ইন্ডিয়া রেডিওতে সংবাদ পাঠ করতেন দেব দুলাল বন্দোপাধ্যায়, নীলিমা স্যান্যাল, অনিল চট্টপাধ্যায় (এক সময় তিনি ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগেও কাজ করেছেন) প্রমুখ। যুদ্ধকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে চরম পত্র শিরোনামে সমকালীন ঘটনা নিয়ে বাস-ব ভিত্তিক ব্যঙ্গ সংবাদ পাঠ করতেন এম. আর. আখতার মুকুল, যা শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। যুদ্ধকালীন সময়ে রেডিও গণ-তথ্য মাধ্যম হিসেবে জনজীবনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। ছোট্ট সেই CITIZEN একব্যান্ড রেডিও এবং সবাই মিলে যুদ্ধকালীন বেতার শোনার স্মৃতি আজও আমার মনকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়।

- আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা থেকে

২টি মন্তব্য:

  1. আমার চেষ্টা থাকবে বাংলাদেশের সকল শ্রোতার জীবন কাহিনী এখানে তুলে ধরার। আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।

    উত্তরমুছুন